দুই নং প্রশ্নের কারন :-
পঙ্গুর অভিনয় করা ভিখারী থেকে নোবেলজয়ী রাষ্ট্র প্রধানের দুর্নীতি দেখাদেখিতে ”প্রতিযোগিতামূলক দুর্নীতি” এমনই এক জতিগত প্রথা হয়ে গেছে যে, আপনিও আমাকে ভাবছেন - আমিও সুযোগের অভাবে সৎ, উত্তরে আমিও একবাক্যে চুপ। শুধু আমি কেন হাটহাজারী মাদ্রাসার মোহতারাম সাহেবের পক্ষেও প্রমাণ করা কঠিন যে তিনি সৎ।
নীতি কখন দুর্নীতি হয়?
নির্ধারিত নীতির ব্যতিক্রম ঘটলেই দুর্নীতি হয়।
অকৃত্রিম ভালবেসে ছেলে কেন তার মা’কে কিংবা বাবা কেন তার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে না - বিজ্ঞান এর জেনিটিক ব্যাখ্যা দেয়ার বহু হাজার বছর আগে এই নীতি নির্ধারন করে দিয়েছে আমাদের বিদ্যমান ধর্মগুলোই যা সৃষ্টিকর্তারই আদেশ বলেই আমরা বিশ্বাস করি, মেনে চলে আসছি বহু হাজার বছর ধরে। এই নীতির ব্যতিক্রমই দুর্নীতি -অপরাধ। খুব খেয়াল করে দেখেন, মানবজাতির সেই শুরু থেকে সমস্ত প্রাণ, বস্তু, প্রকৃতি, পৃথিবী, বিশ্ব, মহাবিশ্ব, বহু মহাবিশ্ব, অসীম মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুর একক সৃষ্টিকর্তাই তাঁর সৃষ্টর সকল নিয়ম-নীতি নির্ধারন করে দিচ্ছেন। যাকে আমরা (মুসলমানগণ) আদমী শরিয়া, ইব্রাহিমী শরিয়া, মুসাঈ শরিয়া, ইসাঈ শরিয়া সহ বিভিন্ন নামে জানি।
ইহুদি-খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মের সাথে এক ঈশ্বরবাদের মিল থাকলেও ইসলামের সাথে তাদের ব্যাপক মৌলিক পার্থক্য হল:
ইসলাম কেবল একটি ধর্মই নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান (পদ্ধতি, আইন), যেখানে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব, মহাবিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিক জীবন ব্যবস্থার নিয়ম-নীতি সহ জীবন ধারনে প্রয়োজন হয় এমন কোন নীতি বাদ নেই, এমন কি টয়লেটে বাম পা দিয়ে প্রবেশের নীতিও। যাকে আমরা দ্বীন ইসলাম (পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, পদ্ধতি, আইন) বলে জানি।
অনেক দাম দিয়ে একটি iPhone 17 Pro Max কেনার পর আপনি যদি সেটটির সৃষ্টিকর্তা প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল কর্তৃক নির্ধারিত iOS অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে না চালিয়ে আপনার দীর্ঘদিনের অভ্যাস্ত Android অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে চালাতে চান সেটটি কি ঠিকঠাক চলবে? আপনি অনেক অভিজ্ঞ ডেভেলপার হলে অনেক সিকিউরিটি বাইপাস করে কোন ভাবে সেটটি অন অফ করতে পারলেও অন্যান্য অ্যাপ কোনটাই স্মুথলি কাজ করবে না। এটাই অ্যাপেলের সিকিউরিটি নীতি। এই ২০২৬ সালে এসে আপনি ”আমার টাকা আমার চয়েস” আমি যেভাব ইচ্ছা সেভাবে চালাব বলে সেটের সমস্ত হার্ডওয়্যার খুলে অন্য কিছু হার্ডওয়্যার সংযোজন বিয়োজন করে হয়তো নতুন কিছু বানিয়ে ফেলতে পারেন কিন্তু তখন সেটা আর iPhone 17 Pro Max থাকবে না এবং iPhone 17 Pro Max মতো পারফরম্যান্স করবে না। হ্যাঁ, এটাই বাস্তবতা।
সামান্য একটা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস- তাও আমরা এর ম্যানুয়েল ব্যতিক্রম চালাতে গেলে সমস্যায় পড়ি, নষ্ট করে ফেলি। আমি আপনি আমরা ৯০% কিংবা দুইশ কোটি মুসলমান যখন আল্লাহ’র নির্ধারিত ম্যানুয়েল (দ্বীন ইসলাম) ফেলে দিয়ে রাজনীতিতে গণতন্ত্র, অর্থনীতিতে পুঁজিবাদ, সামাজিক নীতিতে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষবাদ, বর্ণবাদ, নারীবাদ, সমকামবাদ, ভোগবাদ সহ আরও অনেক মতাদর্শ দিয়ে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকি তখনই আমরা হাজারো সমস্যা সৃষ্টি করি, নষ্ট হয়ে যাই।
একই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ব্যবস্থা দিয়ে ইহুদি-খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ইউরোপ-আমেরিকা এত দৃশ্যমান সমস্যায় পড়তে দেখা না গেলেও আমরা একটা সমস্যা কেটে উঠে আরেকটা সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছি কারন আমাদের বিশ্বাস ও কার্যকলাপ সাংঘর্ষিক ঠিক আইফোনে এনড্রয়েড ওএস এর মতো।
আর তাই এক জন পুরুষ শারীরিক অঙ্গ পরিবর্তন করে নারীতে রূপান্তর হলে আমেরিকায় সমস্যা হয় না কিন্তু বাংলাদেশে হয়।
কারন বাংলাদেশের ৯০% মানুষের ধর্ম মতে এই রুপান্তর অবৈধ (হারাম) পক্ষান্তরে সেই ৯০% মানুষের রাষ্ট্রব্যবস্থা গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ ফ্রিডম অব চয়েস মতে এই রুপান্তর বৈধ।
এখানে আরও ব্যাপকতা পায় ৯০% এর ধর্ম ও কার্যকলাপের সংঘর্ষটা। এই একটি স্তম্ভ বাদ দিলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আমেরিকান গণতন্ত্রের মতো থাকে না অর্ধেক হয়ে যায়। এই আধা গণতান্ত্রিক রাষ্টব্যবস্থা তখন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়। উভয় ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে সামাজিক অন্যান্য ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়ে যায়। নীতি নৈতিকতা বই পুস্তক থেকেও উধাও হতে থাকে। লম্বা সাদা দাড়িওয়ালা সালমান এফ রহমান কিংবা কপালে নামাজের দাগ ফেলে দেয়া এস আলম মাসুদরা দানব হয়ে যায়, এমন কি নোবেলজয়ী রাষ্ট্রপ্রধানও দুর্নীতিতে কৃপনতা করে না। ইসলামের ধর্ম অংশটা কেজি দরে বিক্রি হয় নির্বাচনের হাটে। মাদ্রাসায় ছাত্র বলাৎকার হয়। আর ব্যবসায়িদের পণ্য মজুদ করে সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা লাভের প্রক্রিয়াতো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
মুসলমানদের এমন হাজারো সমস্যার মূল কারন দ্বীন ইসলাম (রাজনৈকি, অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত- পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান) ত্যাগ করা। দ্বীন ইসলামের সাথে নিজের প্রয়োজন মতো কুফর রাজনৈকি, অর্থনৈতিক, সামাজিক ব্যবস্থাকে মিশ্রণ করে দ্বীনের অর্ধেক অংশ মানা অর্ধেক অংশ ছেড়ে দেয়া। যা পরিষ্কার দ্বিচারিতা - নিজের সাথে, নিজের ধর্মের সাথে।
আল্লাহ তাই সূরা আল-মায়িদাহ’য় ৪৪-৪৫-৪৭ নাম্বার আয়াতে ঘোষণা করেছেন যারা নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী সমাজে ফয়সালা করে না তারাই কাফির-জালিম-ফাসিক।
কত ভয়ংকর ঘোষনা!! আমি যদি দ্বীন ইসলাম দিয়ে সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনা না করি তাহলে আমিই সেই কাফির-জালিম-ফাসিক।
এই কারনেই মৃত্যুর পর কবরে আমাকে জিজ্ঞাসা করা দ্বিতীয় প্রশ্নটা হবে “ওয়ামা দ্বীনুকা” অর্থ “তোমার দ্বীন (ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রিয় জীবনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক জীবন ব্যবস্থার পদ্ধতি-আইন) কি?
নামাজ পড়া নয় বরং কায়েম করাই আদেশ, যাকাত দেয়া নয় বরং আদায় করাই আদেশ। এই নামাজ কায়েম ও যাকাত আদায়ের মতো দ্বীন ইসলামের সকল আদেশ নিষেধ সমন্বিত করে সমাজে-রাষ্ট্রে প্রতিষ্টা করার যে কাজটা সেই রাজনৈতিক কাজটাই ফরজে কবিরা মানে সব চেয়ে বড় ফরজ কাজ। আমি বলছি না, এই দ্বীন প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক কাজটা এতটা গুরুত্বপূর্ণ বলেই কবরের দুই নং প্রশ্নটা দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) প্রসঙ্গেই করা হবে নামাজ রোজা যাকাত প্রসঙ্গে না করে।
==============
মোঃ রিয়াদ কাইসার
৩০ এপ্রিল, ২০২৬
