তিন নং প্রশ্নের কারন :-
দৃশ্যপট ১:- সময়কাল ৫০০-৬২২ খ্রিস্টাব্দ। প্রান্তিক সমাজের এক দম্পতির ফুটফুটে সুন্দর এক কন্যা সন্তানের জন্ম হল। দরিদ্র অসহায় দম্পতি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল এই ভেবে যে, সমাজের প্রভাবশালীদের ব্যভিচার থেকে এই কন্যা সন্তানকে তারা কিভাবে রক্ষা করবে- যেখানে ধনী প্রভাবশালীরা আইন তৈরি করে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই? নিজের চোখে এই ফুটফুটে কন্যাকে বিত্তবান ক্ষমতাধর হায়েনাদের ছিঁড়ে কুটে খাওয়া দেখা, বিচার না পাওয়া, সেই যন্ত্রনা সহ্য করার চেয়ে "চল আদরের সাথে আমরাই তাকে কোন কবরে মাটিচাপা দিয়ে আসি" জন্মদাতার এমন সিদ্ধান্তে গর্ভধারিণীর সম্মতি দেয়া সেই সমাজ ব্যবস্থাকে আইয়্যামে জাহেলিয়া বলে আমরা জানি।
দৃশ্যপট ২:- সময়কাল ২০২০ খ্রিস্টাব্দ। চাকরিজীবি দম্পতি, ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ হবে ভেবে বছর পাঁচেক সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্ত। দু’বছর না যেতেই অসর্তকতায় কনসিভ। প্রমোশনটা এই বছরেই হবার কথা। ভুল কোন কিছু সাজানো ক্যারিয়ার পিছিয়ে দিতে পারে, তাই সিদ্ধান্ত - অ্যাবরশন।
উভয় দম্পতির সিদ্ধান্তের কারন কিছুটা এদিক সেদিক হলেও উভয় সমাজের মৌলিক সমস্যা একই। শুধু ”আইয়্যামে জাহেলিয়া” নামটা ”গ্লোবাল সিভিলাইজেশন” হয়ে গেছে। এখনও সমাজ-রাষ্ট্রের আইন ধনী প্রভাবশালীরাই তৈরি করে। তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তৈরি করে। জনতা খুব চেঁচামেচি করলে ধনীরা তাদের ক্ষমতা বলে তাদের অনুকূলে আইন বদলে দেয় বা জনতাকেই ভোটের হাটে মেনুফেস্টুর মুলা দরে কিনে নেয়। যে কারনে দশ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তিন বছরের বাচ্চা সহ কৃষাণী মা’কে জেলে যেতে হয় অন্যদিকে নিজেদের অনুকূলে তৈরি আইন দিয়ে ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়া যায়।
মুক্তিযুদ্ধা পিতার কন্যা মুনিয়ার হত্যাকারী আনভীরের নাম উচ্চারন করতেও দ্বিধা বোধ করে দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া। বিচারতো দূরের কথা কোন জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনও বোধ করে না দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই দেশেরই বা আর কি দোষ? বিলাসবহুল নির্জন দ্বীপে দুই তিন বছরের বাচ্চাদের হাঁড় মাংস বিশেষ উপয়ে রান্না করে খাওয়া সেই সমস্ত গ্লোবাল সিভিলাইজ্ড পিশাচদের নামে জীবিত ভিক্টিমদের জবানবন্দী পেয়েও কোন পদক্ষেপ নেয় না পৃথিবীতে মানবাধীকার নিশ্চিতের পাহাড়াদার খ্যাত আমেরিকা।
তাই আমরা অনেক মানুষ উন্নয়ন চাই। এতটা উন্নয়ন চাই- যতটা উন্নত হলে সমাজের এই নিষ্ঠুর বীভৎসতা আমাদের ছোঁবেনা। তাই আমরা বিভিন্ন মতাদর্শের নেতৃত্বকে অনুসরণ করি।
যেমন?
এই যেমন: জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, মার্টিন লুথার কিং, ভ্লাদিমির লেলিন, মাও সেতুং, কামাল আতাতুর্ক, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, আবুল আ'লা মওদুদী সহ আরও কত শত শত।
আর বাস্ততবা?
এখনো আমরা আমাদের সন্তানের জীবন্ত ভ্রুণ অ্যাবরশন করে ফেলে দিচ্ছি হাসপাতালের পাশের কোন ডাস্টবিনে।
লানত সেই মতাদর্শকে, লানত সেই জীবনব্যবস্থাকে।
তাই আমরা অনেক মানুষ মুক্তি চাই। এতটা মুক্তি চাই- যতটা মুক্ত হলে সমাজের এই নিষ্ঠুর বীভৎসতা আমাদের ছোঁবেনা।
হায়! আমরা নেতা খুঁজে পাই না।
অথচ আমাদের জন্য একজন নেতা পাঠিয়েছিলেন। তিনি কেবল নবী ছিলেন না যিনি শুধু ধর্ম প্রচার করেছেন, তিনি কেবল রাসূল ছিলেন না যিনি শুধু শরীয়ার রিসালাত বহন করেছেন, বরং তিনি এমন এক বিদ্রোহী বিপ্লবী নেতা ছিলেন যিনি তৎকালীন সুপার পাওয়ার আরবের আইয়্যামে জাহেলিয়া শাসন ব্যবস্থাকে চ্যালেন্জ করে বিদ্রোহ করেছিলেন, সত্য ও ন্যায়ের জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবে মিথ্যা ও জুলুমকে পরাজিত করে চির মুক্তি ও শান্তির পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা মদিনা রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করে গোটা বিশ্বব্যবস্থা বদলে দেখিয়ে গেছেন।
গরীবের অধিকার যুক্ত হয়ে গেছে ধনীর ভান্ডারে। অসহায় আর ক্ষমতাধর একই কাতারে। সুদূর সিরিয়া থেকে আসা কোন বনিক কাফেলা কিংবা কোন অমুসলিম পাড়া ছিল ততটাই নিরাপদ যতটা নিরাপত্তায় ছিল রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবার। পাহাড়ের চূড়ায় কোন অনাহারি পাখি কিংবা পথে বাজারে ক্ষুধার্ত একটা কুকুরও যেন না খেয়ে না মরে ততখানি মানবতার, যেখানে বেহেস্তের স্থান নারীর (মায়ের) পায়ের নিচে নির্ধারিত - তেমনই এক রাষ্ট্রব্যবস্থা/জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্টা করে গেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
কেয়মত তক তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নেতা আল্লাহ’র পক্ষ থেকে নির্ধারিত।
সত্যিই, এই সিভিলাইজ্ড জীবনে আমরা ভুলে গিয়েছি যে তিনি একজন নেতা ছিলেন, তাই শুধু নামাজ শেষে দরুদ পড়াতেই তাঁকে মনে রাখি। তাঁর আদর্শ ব্যতিরেকে অন্য শত জনের আদর্শ ধারন করতে দ্বিধা করি না।
এই কারনেই মৃত্যুর পর কবরে আমাকে জিজ্ঞাসা করা তৃতীয় প্রশ্নটা হবে “ওয়া মান নবীয়্যুকা” অর্থ “তোমার নেতা/নবী/রাসূল কে?
মৃত্যুর পর কবরে তিনটি প্রশ্নের কারন নিয়ে তিন পর্বের এই লেখা কোন উপদেশ কিংবা পরামর্শ নয়, বরং চিন্তার খোরাক। কেউ পড়ুক, পড়ে ভাবুক। ”ভাবতে পারা” এই একটি বিশেষ গুনের জন্যই মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। না ভাবলে হায়েনা, শকুন, মশা, তেলাপোকার সাথে মানুষের পার্থক্য কোথায়?
এক নং প্রশ্নের কারন জানতে ক্লিক করুন
==========
© মো: রিয়াদ কাইসার । ৪ মে, ২০২৬
